কম্পিউটার ও মৌলিক সংগঠন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কম্পিউটার ও মৌলিক সংগঠন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

কম্পিউটারের অংশগুলো কি কি?
নিম্নে দেখুন।

কম্পিউটারের গঠনপ্রণালীঃ

একটি পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার তৈরি করতে দু’টো প্রধান অংশের প্রয়োজন হয়। সেগুলো হলো-

(১) হার্ডওয়্যার (২) সফটওয়্যার।

১) হার্ডওয়্যারঃ

 কম্পিউটার তৈরি করতে যেসব শক্ত জিনিষের ব্যবহার করা হয়েছে তার সবগুলোকেই হার্ডওয়্যার বলে।এক কথায় আমরা চোখের সামনে কম্পিউটারের যে সব ডিভাইস বা যন্ত্রগুলো দেখি তা সবই হার্ডওয়্যার।
যেমন- মনিটর, সিপিইউ,কীবোর্ড, মাউস ইত্যাদি হার্ডওয়্যারের অন্তর্গত। এই হার্ডওয়্যারের ভিত্তিতে কম্পিউটারকে আবার চারটি অংশে বিভক্ত করা যায়। সেগুলো হলো-

(ক)ইনপুট অংশ।

(খ)কেন্দ্রিয় প্রক্রিয়াজাত করণ অংশ।

(গ)মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশ।

(ঘ)আউটপুট অংশ।

(ক)ইনপুট অংশঃ যে অংশের সাহায্যে কম্পিউটারে কোন নির্দেশ বা তথ্য প্রবেশ করানো হয় সেই অংশকেই ইনপুট অংশ বলা হয়।
পরবর্তীতে সেই নির্দেশ বা তথ্যের ভিত্তিতেই কম্পিউটার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করতে পারে।

বিভিন্ন মাধ্যমের সাহায্যে কম্পিউটারে তথ্য প্রবেশ করানো যায়। তবে এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কীবোর্ড, মাউস, স্ক্যানার, জয়স্টিক, মাইক্রোফোন ইত্যাদি এবং এগুলো সবই ইনপুট অংশের অন্তরভুক্ত।

(খ)কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়াজাত করা হয় সেই অংশকেই বলা হয় কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ অংশ।
এই অংশটি হলো কম্পিউটারের মূল বা প্রাণকেন্দ্র।আমাদের মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে মগজ যেমন আমাদের সবধরণের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে-ঠিক তেমনি এই অংশ কম্পিউটারের অভ্যন্তরে সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে।
তারপর সেই প্রক্রিয়াজাত করা তথ্যকে পাঠ উপযোগি করে প্রেরণ করে আউটপুট অংশে।

(গ)মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারে প্রবেশ করানো তথ্যকে সংরক্ষণ করে রাখা যায় সেই অংশকেই মজুদ কেন্দ্র বা স্মৃতি অংশ বলে।
কম্পিউটারে কোন তথ্য প্রবেশ করিয়ে তার ফলাফল দেখলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না।
সেগুলো জমা করে রাখারও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।অনেক সময় কম্পিউটারে কাজ করার জন্য কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশ প্রদাণ করতে হয়।
এগুলো আগে থেকেই কম্পিউটারে প্রবেশ করিয়ে রাখা যায়।কম্পিউটারের এই স্মৃতিকে দু’টি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়।

(১)ভেতরের স্মৃতিঃ যে স্মৃতিধারক কম্পিউটার যন্ত্রের ভিতরে থাকে সেই স্মৃতিধারককে বলা হয় ভেতরের স্মৃতি।

এই স্মৃতি আবার দুই প্রকার।
যেমনঃ রিড অনলি মেমোরী বা রম ও র‌্যানডম একসেস মেমোরী বা র‌্যাম।

ক.রম
যে স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে কেবলমাত্র পড়া যায় কিন্তু কোন পরিবর্তন করা যায় না, সেই স্মৃতিকে বলা হয় রিড অনলি মেমোরী বা রম।

এই স্মৃতিকে আবার কম্পিউটার চালানোর প্রাথমিক স্মৃতিও বলা হয়ে থাকে।
সাধারণত: কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই ধরণের স্মৃতির মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশ স্থায়ীভাবে দিয়ে দেন।

খ.  র‌্যামঃ
যে স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে দেখা যায়, পাঠ করা যায় এবং প্রয়োজনে পরিবর্তন করা যায় সেই স্মৃতিকেই র‌্যানডম একসেস মেমোরী বা র‌্যাম বলে।
এই ধরণের স্মৃতি হচ্ছে অস্থায়ী। কারণ এই স্মৃতির মধ্যকার তথ্যকে ব্যবহারকারী তার ইচ্ছামত পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও পরিমার্জন করতে পারে।

(২)বাইরের স্মৃতিঃ কম্পিউটারের বাইরে যে মাধ্যমে কোন তথ্যকে সংরক্ষণ করা হয় সেই স্মৃতিকেই বলা হয় বাইরের স্মৃতি। এই স্মৃতি কম্পিউটারের যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণ স্মৃতি।ব্যবহারকারী তার তথ্য কম্পিউটারে সরক্ষণ করতে চাইলে এই স্মৃতির সহযোগিতা বা সাহায্য নিতে হবে। এই স্মৃতির উদাহরণ হলো- হার্ডডিস্ক, ফ্লপিডিস্ক ইত্যাদি।
এই বাইরের স্মৃতিধারকগুলো সাধারণভাবে যে কোন কম্পিউটারেই ব্যবহার করা যায়। ইদানিং বাজারে বেশ কিছু নতুন ও উপযোগি বাইরের স্মৃতিধারক পাওয়া যাচ্ছে।
এরমধ্যে সিডি বা কম্প্যাক্ট ডিস্ক, এমও ডিস্ক, জিপ ডিস্ক, সুপার ডিস্ক ইত্যাদি।কিন্তু এধরণের স্মৃতিধারককে ব্যবহারের জন্য আলাদা ধরণের ডিভাইস বা ড্রাইভ দরকার হয়।

(ঘ) আউটপুট অংশঃ যে অংশে কম্পিউটারের যাবতীয় ফলাফল প্রদর্শিত হয় সেই অংশকেই বলা হয় কম্পিউটারের আউটপুট অংশ।

এই অংশটা কম্পিউটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশে আমাদের যাবতীয় কাজের ফলাফল প্রদর্শিত হয়।
কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন ধরণের ডিভাইস বা মাধ্যম রয়েছে।এরমধ্যে প্রাথমিক বা উল্লেখযোগ্য হলো মনিটর। কম্পিউটারের সামনে থাকা টেলিভিশনের মতো দেখতে এই যন্ত্রটির নাম মনিটর। মনিটরের পর্দায় আমাদের বা ব্যবহারকারীর যাবতীয় কাজের ফলাফল ফুটে উঠে।
এই মনিটরের অপর নাম ভিডিইউ বা ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট।
এছাড়া ফলাফল কাগজে প্রিন্ট করে নেওয়ার জন্য রয়েছে প্রিন্টার। শব্দের ফলাফল শোনার জন্য আছে স্পীকার ইত্যাদি।

২)সফটওয়্যারঃ সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের প্রাণশক্তি। কম্পিউটার চালাতে যে প্রাণশক্তি দরকার হয় তাকে সফটওয়্যার বলে।

মানুষের যেমন হাত, পা, কান, মাথা ইত্যাদি থাকলেই চলে না- তার সাথে থাকতে হয় প্রাণশক্তি। তেমনি শুধু হার্ডওয়্যার দিয়ে কম্পিউটার চলে না। একে চালাতে হলে চাই সফটওয়্যার।
হার্ডওয়্যার খালি চোখে দেখা যায় কিন্তু সফটওয়্যার দেখা যায় না।
কম্পিউটারে যে সমস্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।

আজ এই পর্যন্তই।
ভালো থাকবেন।



কম্পিউটারের মৌলিক বৈশিষ্ট্য গুলি:

কম্পিউটার একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র। এর অর্থ হলো বিদ্যুতের সাহায্যে চলে। ইলেক্ট্রনিক আরো অনেক যন্ত্র আছে। কিন্তু কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য যা কম্পিউটারকে অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি থেকে আলাদা করেছে।

উল্লেখযোগ্য দশটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো -   

১)দ্রুতগতি (High Speed) 

২) নির্ভুলতা(Correctness)

৩) সূক্ষতা (Accuracy) 

৪) বিশ্বাসযোগ্যতা (Reliability) 

৫) ক্লান্তিহীনতা (Diligence) 

৬) স্মৃতিশক্তি (Memory) 

৭) স্বয়ংক্রিয়তা (Automation) 

৮) যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত (Logical Decision)  

৯) বহুমুখিতা (Versatility) 

১০) অসীম জীবনীশক্তি (Endless Life)

উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যগুলোর কারনেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর উন্নয়নের পেছনে কম্পিউটারের ভুমিকাকে সব থেকে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।
উন্নত দেশগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও বর্তমানে কম্পিউটারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিন্মে কম্পিউটারের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ঠ্যগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১) দ্রুতগতি (High Speed)

বৈদ্যুতিক বাল্বের সুইচ অন করা মাত্রই বাল্ব জ্বলে ওঠে। কারন বিদ্যুতের গতি অন্যান্য যেকোন বস্তুর গতির চেয়ে অনেক অনেক বেশি।
বিদ্যুতের গতিতে আমাদের পৃথিবীকে পরিভ্রমন করলে এক সেকেন্ড সারে সাতবার পরিভ্রমন করা সম্ভব।
কম্পিউটারের গতিও হচ্ছে বিদ্যুতের গতি। কম্পিউটার কাজ করে বৈদ্যুতিক সিগন্যালের মাধ্যমে আর তাই আধুনিক কম্পিউটার ২ (দুই) কোটি যোগ করতে সময় ব্যবহার করে মাত্র ১ সেকেন্ড।
দ্রুতগতি কম্পিউটারের অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি।
কম্পিউটার একটি নির্দেশ সম্পন্ন করতে ১ ন্যানোসেকেন্ড সময় ব্যবহার করে।
১ সেকেন্ডর ১০০ কোটি ভাগের এক ভাগ হচ্ছে ১ ন্যানোসেকেন্ড।
তোমাদের বোঝার সুবিধার জন্য সেকেন্ডের ভগ্নাংশের একটি টেবিল
নিচে দেয়া হলো -   

১ মিলি সেকেন্ডে = ১/১০০০ সেকেন্ড

১ মাইক্রো সেকেন্ড = ১/১০০০০০০ সেকেন্ড

১ ন্যানো সেকেন্ড = ১/১০০০০০০০০০ সেকেন্ড

১ পিকো সেকেন্ড = ১/১০০০০০০০০০০০০ সেকেন্ড

১ফেম্টো সেকেন্ড = ১/১০০০০০০০০০০০০০০০ সেকেন্ড

এ্যাটো সেকেন্ড = ১/১০০০০০০০০০০০০০০০০০০ সেকেন্ড

দ্রুতগতির কারনে কম্পিউটার ১ (এক) ঘন্টায় যে পরিমান হিসাব-নিকাশের কাজ করতে পারবে একজন মানুষ তার ১০০ বছরের কর্মময় জীবনেও তার সমপরিমান কাজ করতে পারবে না।

২) নির্ভুলতা (Correctness) 

কম্পিউটার একটি মেশিন। মানুষের দেয়া সূত্র ও যুক্তির মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করে।
মানুষ তার নিজের আবিস্কার করা সূত্র ব্যবহার করতে যেয়ে ভুল করতে পারে। কিন্তু কম্পিউটার কখনও ভুল করে না।
কম্পিউটারের নির্ভুলতা শতকরা ১০০ ভাগ।

৩) সূক্ষ্মতা (Accuracy)

কম্পিউটারের স্মৃতিশক্তি আছে। তাই অনেক ঘর পর্যন্ত নির্ভুলভাবে গানিতিক ক্রিয়াকলাপ করতে পারে। এই কারনে কম্পিউটারের সূক্ষ্মতা অনেক বেশি ধরে নেয়া যায়।
দ্রুতগতি ও সূক্ষ্মতা এই দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্টের কারনে পর্যবেক্ষনমূলক গবেষনার কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়। যেমন পারমানবিক বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরনে সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষন করা হয়।

৪) বিশ্বাসযোগ্যতা (Reliability) 

কম্পিউটার নির্ভুল ও সূক্ষ্মভাবে কাজ করে। কাজ করার জন্য কম্পিউটার মানুষের আবিস্কার করা সূত্র ও মানুষের দেয়া নির্দেশ ব্যবহার করে।
তবে মানুষ যদি ভুল সূত্র ব্যবহার করে ও ভুল নির্দেশ দেয় তবে কম্পিউটার ভুল উত্তর তৈরি করে থাকে। এই দোষ কিন্তু কম্পিউটারের নয়।
যে ব্যক্তি কম্পিউটারকে ভুলভাবে নির্দেশনা দেয় দোষটি মূলত তারই। ইংরেজিতে কম্পিউটারের ভুল ফলাফল দেয়াকে বলে গার্বেজ ইন গার্বেজ আউট বা জিগো।

৫) ক্লান্তিহীনতা (Diligence) 

কম্পিউটার একটি যন্ত্র। আর যন্ত্রের একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ক্লান্তিহীনতা। পুনরাবৃত্তিমূলক কাজে বা সাধারন কোন নিয়মিত কাজে কম্পিউটার রাত দিন ক্লান্তিহীন, বিরক্তিহীন এবং বিশ্রামহীনভাবে কাজ করতে পারে। কম্পিউটারের কোন আবেগ নেই।

তাই কাজ করতে তার মনোযোগ, সহিষ্ণুতায় ভাটা পরে না। শিল্পক্ষেত্রে কিংবা পর্যবেক্ষনমূলক কাজে এই কারনেই কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

৬) স্মৃতিশক্তি (Memory) 

কম্পিউটারের নিজস্ব স্মৃতিশক্তি আছে।একে ইংরেজিতে মেমোরি (গবসড়ৎু) বলে। প্রোগ্রামারগণ কম্পিউটার কি করে কাজ করবে তার নির্দেশ কম্পিউটারের স্মৃতিতে সংরক্ষন করে দেন।
কাজ করার সময় এখান থেকে ধারাবাহিকভাবে নির্দেশ তুলে নিয়ে কম্পিউটার কাজ করে।

কম্পিউটার দিয়ে কাজ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা কম্পিউটারের স্মৃতিতে সংরক্ষন করে রাখা হয়।
প্রক্রিয়াজাত ডেটা ও ফলাফলও স্মৃতিতে সংরক্ষিত থাকে। অপ্রয়োজনীয় তথ্য স্মৃতি থেকে মুছে ফেলা যায়।

৭) স্বয়ংক্রিয়তা (Automation) 

কম্পিউটার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে। এই কারনে ঝুকিপূর্ন কাজে মানুষের পরিবর্তে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া কল-কারখানায়, বিস্ফোরক গবেষনায় কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। পূর্ব থেকে যেহেতু কম্পিউটারে নির্দেশ সংরক্ষন করে দেয়া থাকে তাই কাজ করার সময় একটির পর একটি নির্দেশের আলোকে স্বয়ংক্রিযভাবে কম্পিউটার কাজ করতে পারে।

৮) যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত (Logical Decision) 

কম্পিউটারকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবস্থা বিচার করে কি কাজ করতে হবে তার আগাম নির্দেশ দিয়ে রাখলে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহনের বিভিন্ন কাজ নিজে নিজে করতে পারে।
তবে নিজে থেকে কম্পিউটার কোন মৌলিক চিন্তাশক্তির অধিকারী নয়। মানুষের দেয়া উন্নত সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে কম্পিউটার যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। 

৯) ব্যবহারের বহুমুখিতা (Versatility) 

বহুমুখী কাজে কম্পিউটারকে ব্যবহার করা যায়। এর কারন হচ্ছে কম্পিউটার একাট প্রোগ্রাম নির্ভর যন্ত্র। যখন যেই প্রোগ্রাম কম্পিউটারে লোড করা থাকে সেই প্রোগ্রাম অনুসরণ করে কম্পিউটার কাজ করতে পারে।
এই কারনে একটি কম্পিউটারে যেমন হিসাব-নিকাশের প্রোগ্রাম ব্যবহার করে হিসাব-নিকাশ করা যায় আবার মাল্টিমিডিয়া সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে ছবি দেখা যায় বা গান শোনা যায়।
এরকম বিবিধ কাজ কম্পিউটার করতে পারে।

১০) অসীম জীবনীশক্তি (Endless Life)

কম্পিউটার চালানো হয় প্রোগ্রাম ব্যবহার করে। প্রোগ্রাম তৈরি করেন প্রোগ্রামার ও বিজ্ঞানীগণ। মানুষের জীবনের যেমন একটি নির্দিষ্ট সময় আছে কিন্তু প্রোগ্রামের কোন নির্দিষ্ট জীবনসীমা নেই।

মানুষের তৈরি প্রোগ্রাম বছরের পর বছর সামান যোগ্যতায় একই মান এ কাজ করে যেতে পারে। হার্ডওয়্যারের একটি নির্দিষ্ট জীবনসীমা আছে। কিন্তু সফ্টওয়্যারের জীবন অসীম।

আজ এই পর্যন্তই।
ভালো থাকবেন।


কম্পিউটারের বিভিন্ন ক্ষেত্র বা ব্যবহার  গুলোকবার হলেও দেখুন!

আজকের কম্পিউটার একটি আধুনিকইলেকট্রনিক যন্ত্র। 
কম্পিউটারComputer শব্দটি ইংরেজি Computeশব্দ থেকে এসেছে। Compute শব্দেরঅর্থ গণনা করা আর Computer শব্দেরঅর্থ গণনাকারী যন্ত্র। পূর্বে কম্পিউটারদিয়ে শুধু হিসাব-নিকাশের কাজ করাহতো। 

কিন্তু বর্তমানে আধুনিক কম্পিউটার দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতেজটিল হিসাব-নিকাশের কাজ নির্ভুলভাবেকরা ছাড়াও বহু রকমের কাজ করা যায়।
কম্পিউটার দিয়ে সারা জীবনের হিসাবকয়েক মিনিটে করা সম্ভব। এটিঅনেকগুলো নির্দেশ নির্ভুলভাবে ও তড়িৎগতিতে নির্বাহ করতে পারে।

কম্পিউটারের নিজের কোন কাজ করারক্ষমতা নেই। কম্পিউটার আবিষ্কারকগণএবং ব্যবহারকারীগণই বলে দিচ্ছে তাকেকী করতে হবে এবং কেমন করে করতেহবে। 

মূলত উপযুক্ত নির্দেশের প্রভাবেকম্পিউটার জড় পদার্থ হতে গাণিতিকশক্তিসম্পন্ন এক বুদ্ধিমান যন্ত্রে পরিণতহয়েছে।

... বিস্তারিত..........

একটু জটিল হলো তবে সাধারণ কথা হলো- কম্পিউটার কিছু ইলেক্ট্রনিকযন্ত্রাংশের সমষ্টি যা বিদ্যুৎ প্রবাহের মাধ্যমেও সফটওয়্যার এর সহায়তা নিয়ে সচলকরা হয় এবং চাহিদা অনুসারে ব্যবহারকরা হয়।

কম্পিউটার বর্তমান অবস্থায় একবারেআসেনি। এটি বিভিন্ন ধাপ বা পর্যায়েঅতিক্রম করে এসেছে। এই  এক একটিধাপ বা পর্যায়কে এক একটি প্রজন্ম বাজেনারেশন বলে।

 প্রতিটি প্রজন্মপরিবর্তনের সময় কিছু নতুন বৈশিষ্টসংযোজিত হয় এবং পুরনোবৈশিষ্ট্যগুলোর বিলুপ্তি ঘটে।কম্পিউটারকে প্রজন্ম হিসেবে ভাগ করারপ্রথা চালু হয় IBM কোম্পানির একটিবিজ্ঞাপন থেকে। 
এ প্রজন্ম বিন্যাস নিয়েমতান্তর আছে। তবে ভালব, আসি-সি,ট্রানজিস্টর, মাইক্রোপ্রসেসর ইত্যাদি একএকটি প্রজন্ম নির্দেশ করে।

আধুনিক কম্পিউটারের ধারণা উপস্থাপনকরেন কেমব্রিজ বিশ্বদ্যালয়েয়র স্নাতকএবং পরবর্তীতে গণিতের লুকাসিয়ানঅধ্যাপক স্যার র্চালস ব্যাবেজ ১৮৩৮সালে। 
এজন্য তাকে কম্পিউটারের জনকবলা হয়। 

কিন্তু তার সময়ে উপযুক্তঅন্যান প্রযুক্তি না থাকায় তিনি তারপ্রস্তাবিত গণনাযন্ত্র পরিপূর্ণভাবে প্রদর্শনকরতে পারেনি।

র্চালস ব্যাবেজের ধারণার প্রতিফলনঘটিয়ে ১৯৪৪ সালে হাওয়ার্ড একিনেরনেতৃত্বে মার্ক-১ Mark-1 নামের ইলেক্ট্রনিককম্পিউটার আবিষ্কার হয়।

 এইকম্পিউটারটি তৈরিতে কাজ করেছিলেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও বিখ্যাতআইবিএম কোম্পনির একদল বিজ্ঞানী।

কম্পিউটারের যে ভাবে কাজ করে থাকে-

সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য ব্যবহারকারীকর্তৃক তৈরি প্রোগ্রাম (Programs)কম্পিউটার গ্রহণ করে মেমোরিতেসংরক্ষণ করে এবং ব্যবহারকারীরনির্দেশে কম্পিউটার প্রোগ্রাম নির্বাহ(Execute) করে।

কী-বোর্ড, মাউস, জয়স্টিক, ডিস্ক ইত্যাদিরমাধ্যমে কম্পিউটার ডেটা (Data) গ্রহণকরে।

ডেটা প্রসেস (Processor) করে

মনিটর, প্রিন্টার, ডিস্ক ইত্যাদির মাধ্যমেকম্পিউটার ফলাফল প্রকাশ করে ।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার-

১. ওয়ার্ড প্রসেসিং বা লেখা-লেখিরকাজে(আমাদের দেশেই মুলত) টাইপরাইটারের বিকল্প হিসেবে অফিসআদালতে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

২. অফিসের যাবতীয় ব্যবস্থাপনার কাজেআজকাল কম্পিউটার ব্যাপকভাবেব্যবহৃত হচ্ছে।

৩. বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কাজে।

৪. চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে।

৫. একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংবাদপ্রেরণের ক্ষেত্রে।

৬. বিনোদনের ক্ষেত্রে যেমন টিভি দেখা,ভিডিও দেখা ও গান বাজানো,উপস্থাপনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে।

৭. যোগাযোগ ব্যবস্থার টিকিট বিক্রিথেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনেরট্রন্সপোর্টের ডিরেকশন ও গতিনির্ণয়ের কাজে।

৮. শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি পরিচালনা বানিয়ন্ত্রণের কাজেও কম্পিউটারব্যবহৃত হচ্ছে।

৯. মুদ্রণশিল্পে প্রকাশনামূলক যে কোনকাজে।

১০. আধুনিক সামরিক বাহিনীতেনিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে ইত্যাদি

মূল কথা হলো আমাদের জীবনের প্রতিক্ষেত্রে আমরা এই প্রযুক্তির সাথে জড়িয়ে পড়েছি।

বর্তমান যুগ কম্পিউটাররের যুগ।আধুনিক সভ্যতায় কম্পিউটারের ব্যবহারদিন দিন বেড়েই চলেছে। বর্তমানেকম্পিউটার দিয়ে চিত্ত বিনোদন হতেমহাকাশযান নিয়ন্ত্রন পর্যন্ত সব কিছু করাহচ্ছে। নিম্নে কম্পিউটারের কিছু ব্যবহারউল্লেখ করা হলোঃ

১.   অফিসের কাজ : 
অফিসের যাবতীয়কাজ দ্রুত ও নির্ভূলভাবে কম্পিউটারদ্বারা করা যায়। অফিসের কাজবন্টন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, চিঠিপত্রলেখা, রেকর্ড সংরক্ষণ, ফাইলরক্ষণাবেক্ষণ, দৈনিক আয়-ব্যয়েরহিসাব-নিকাশ ইত্যাদি কাজকম্পিউটার দ্বারা করা যায়।

২.   ব্যাংকিংয়ের কাজে : 
আধুনিক উন্নতবিশ্বে প্রতিটি ব্যাংক কম্পিউটার দ্বারানিয়ন্ত্রিত, চেকের হিসাব , ক্রেডিট ওডেবিটের হিসাব কম্পিউটার দ্বারাকরা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের চেকজমা দিয়ে অপেক্ষায় থাকার বিরক্তিদূর হচ্ছে

ব্যাংকে কম্পিউটারব্যবহরের ফলে একদিকে যেমনগ্রাহকগণ দ্রুত সেবা পাচ্ছেন তেমনিব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাকাজের চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে।বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কেরমাধ্যমে প্রতিটি ব্যাংকের হিসাবকেন্দ্রীয় ব্যাংকে দ্রুত জানানো সম্ভবহচ্ছে।

৩. ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে : ফান্ডট্রান্সফার, ব্যালেন্স সীট, হিসাবরক্ষণ,পে-রোল, আয়-ব্যয় হিসাব, ইত্যাদিকম্পিউটার দ্বারা দ্রুত সম্ভব।

৪.   কল-কারখানার কাজে : কল-কারখানার যাবতীয় কাঁচামালআমদানির হিসাব, রপ্তানি দ্রব্যেরহিসাব, কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংখ্যারহিসাব, শ্রমিক কর্মচারীদের মাসিকবেতনের হিসাব, বার্ষিক রিপোর্ট তৈরিও বার্ষিক বাজেট তৈরি প্রভৃতি কাজকম্পিউটার দ্বারা করা যায়।

৫.   প্রকাশনার কাজে : 
কম্পিউটার দিয়েদ্রুত গ্রফিক্স ডিজাইন, মুদ্রণ,গবেষণা রিপোর্ট, বই, চিঠিপত্রইত্যাদি প্রকাশিত হচ্ছে। যখনকম্পিউটারের ব্যবহার ছিল না, তখনবই প্রকাশ করা ছিল কঠিন, এতেপ্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় হতো।

৬. সংবাদপত্র : 
কম্পিউটারের মাধ্যমে খুবদ্রুত সংবাদপত্র প্রকাশের বিভিন্নকাজ করা যায়। কম্পিউটারনেটওয়ার্ক-এর মাধ্যমে একটি দেশেরপ্রতিটি শহর থেকে একই সময়সংবাদপত্র বের করা হচ্ছে। এছাড়াও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বেরযে কোন গ্রাহক সংবাদপত্রকম্পিউটারের পর্দায় পড়ে নিচ্ছেঅথবা প্রিন্টারের মাধ্যমে প্রিন্ট করেনিচ্ছে।

৭.   টেলি কমিউনিকেশনের কাজে :
টেলিফোন এবং কম্পিউটারের মধ্যেসংযোগ করে অতি দ্রুত সংবাদপৃথিবীর একস্থান হতে অন্যস্থানেপাঠানো যাচ্ছে।

৮.   চিকিৎসাবিজ্ঞানে : 
প্যাথলজিক্যালপরীক্ষা, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, ক্যান্সাররোগ নির্ণয়, টিউমারের গঠন ইত্যাদিকাজে কম্পিউটার দ্রুত ফলাফলদিচ্ছে। বিভিন্ন রোগের ঔষধ নির্ধারণএবং ঔষধের মান নিয়ন্ত্রনকম্পিউটার দিয়ে করা হচ্ছে।

৯. মহাকাশ গবেষণার কাজে :
মহাকাশযানের সূক্ষ্ম হিসাব নিকাশ,ডিজাইন, এবং পরিচালনার কাজেকম্পিউটার ব্যাপকভাবে ব্যবহারকরা হচ্ছে। এছাড়াও দূর আকাশেনভোচারীর গতিপথ নির্দেশে সহায়তাকরে কম্পিউটার।

১০. প্রতিরক্ষার কাজে :
 বোমারু  বিমানবা যুদ্ধ জাহাজ নিয়ন্ত্রণ, মিসাইল ওক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি কাজেকম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে।

১১. বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ :
বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বিমানযোগাযোগ কম্পিউটার ছাড়া অচল।অনলাইনে সিট রিজার্ভেশন,বিমানের চলাচলের রুট নির্ধারণসহবিভিন্ন কাজে কম্পিউটার ব্যবহারকরা হচ্ছে।

১২. শিক্ষার কাজে : 
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের হিসাবনিকাশ, দ্রুত পরীক্ষার ফলাফলপ্রকাশ, প্রতি বর্ষে ছাত্র-ছাত্রীদেরসংখ্যার হিসাব ইত্যাদি কম্পিউটারদ্বারা করা সম্ভব। এছাড়া বছরঅনুযায়ী পাশ ও ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা কম্পিউটার দ্বারাকরা যায়।

১৩. বিনোদনের কাজে :
 কম্পিউটারে গেমখেলা, গান শোনা, ছবি দেখা ইত্যাদিবিভিন্ন বিনোদনের জন্য কম্পিউটারব্যবহার করা হচ্ছে। টিভি কার্ডলাগিয়ে কম্পিউটারকে টিভিহিসাবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

১৪. আবহাওয়ার কাজে : 
কম্পিউটারেরমাধ্যমে আবহাওয়ার বিভিন্ন ধরনেরতথ্য সংগ্রহ করে পূর্বাভাস দেওয়াযায়, যার দ্বারা আমরা কোনপ্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতেপারে।


আজ এই পর্যন্তই।
ভালো থাকবেন।
ভুল হলে ক্ষমা করবেন।


Ad 728x90